Break Up Story Bangla

বিচ্ছেদ – পর্বঃ ৪ | Break Up Love Story Bangla

Sunday Story Bangla | Best Romantic & Sad Love Stories

বিচ্ছেদ – Break Up Love Story Bangla: আমরা যখন রাস্তায় ঘুরছি, ভীড়ের মাঝে এক ফাঁকে ছেলেটা আমার শরীরে বাজে ভাবে হাত দেয়। আমি তৎক্ষনাৎ আমার বান্ধবী কে বলে দিই, বান্ধবী ক্ষেপে যায়।


পর্ব ৪

দু বছরের মাথায় ইয়াসিরের চাকরি হয়ে যায় এবং ফাইনালি দু পরিবারের সম্মতি তে আমাদের বিয়েটা হয়ে যায়।
আমার জীবনে সবচাইতে খুশির দিন হয়ে যায় আমার বিয়ের দিন টা।
আজকাল ভালোবাসে তো সবাই কিন্তু মানুষটা কে পায় কয়জন?

আমি পেয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ সুখী দাবী করতে থাকি।
বাবা মা চাইছিলেন আমি অন্তত আমার পড়াশোনা টা বাসা থেকেই করি কিন্তু নাহ্ আমি বাসায় থাকলাম না শ্বশুরবাড়িতে গিয়েই উঠলাম।
নতুন নতুন সংসার, নতুন সব খুব খুব ভালো লাগছিলো।
শ্বশুরবাড়ির সবাই কি ভালোটাই বাসে!

সংসারের তালে আমার আবার ওদিকে পড়াশোনা পিছিয়ে যেতে থাকলো, ওরও ছুটি শেষ হয়ে আসছিলো।
ওর বাবা কে বলায় বাবা তো প্রায় সাথেসাথেই বললেন তোরা ঢাকায় যা, বন্ধ পেলে না’হয় আসবি।
লেখাপড়ার ক্ষতি করার তো দরকার নেই।

ওর বাবা এ কথা বললেও আমি একটা জিনিস লক্ষ করলাম মা ব্যাপারটা অতোটা পছন্দ করলেন না।
যাক আমরা ঢাকায় চলে আসলাম।
সব মোটামুটি ভালোই চলছিল, আমাদের দু’জনের ছোট্ট সংসার।
আমার পড়াশোনা ওদিকে ওর অফিস, বন্ধ পেলেই হুট করে চলে যেতাম রংপুরে।
সুখ স্বাচ্ছন্দ্যই কাটছিলো সময়৷

দেখতে দেখতে দু’টো বছর কেটে যায় আমাদের সংসারের।
একদিন সকালবেলা খবর আসে বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আমাদের যেতে হবে।
আমরা তাড়াহুড়ো করে বেরুলাম, পথেই খবর এলো বাবা আর নেই।
বাবা চলে যাওয়ার পর শোকের ছায়া নেমে এলো সংসারে।
মা পাগলপ্রায়।
তাকে সামলাতে আমরা কয়েক মাস থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম।

আমার আব্বা-আম্মা এসে বোঝাতো ওনাকে, মাঝেমধ্যে ওনার পুরানো বান্ধবীদের সাথে দেখা করাতাম।
ওনার বান্ধবীদের সাথে দেখা করতে গিয়ে হয়তোবা বাড়ির বউ দের নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
উনি সেদিন বাসায় এসে আমাদের ডেকে বললেন_
“বিয়ে তো হয়েছে মেলাদিন হইলো, এটাই আসল সময় বাচ্চা কাচ্চা নেয়ার। পরে বয়স বেশি হয়ে গেলে তোর বউয়ের ই কষ্ট হবে।”
আমি একদম ই প্রস্তুত ছিলাম না এটা শোনার জন্য।

আমার ক্যারিয়ার গড়ার সময় এটা, আমি মোটেই বেবী চাইছিলাম না।
এটাসেটা বুঝিয়ে সেদিনের মতো ব্যাপারটা সামাল দেয়া গেলো।
কিন্তু ওর মাথায়ও ব্যাপারটা গেঁথে গেছিলো বুঝি!
ও আমাকে প্রায়ই ভাবতে বলতো, কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যাবে তার প্ল্যান করতো।
এর ওদিকে তো মা প্রতিদিনই বলতেই থাকলো।

আমাদের সংসারে অশান্তি মূলত এই বাচ্চা ঘটিত তর্ক বিতর্ক নিয়েই শুরু হলো।
একসময় আমিও ভাবলাম স্বামী, শ্বাশুড়িকে নারাজ করি কেনো?
বাচ্চা তো দূর্বলতা না হয়ে শক্তি হতে পারে?
আমি রাজি হয়ে গেলাম।

আমার ক্লাস মিস যাচ্ছিলো বললাম ঢাকায় ফেরত যেতে।
ও ওর মা, ভাই বোনকে একা ছাড়তে পারছিলো না আমি বললাম আমাদের সাথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হোক?
কিন্তু নাহ্ আমার শ্বাশুড়ি কিছুতেই যাবেন না ঢাকায়।

ওনার সাজানো সংসার ছেড়ে নাকি ইট পাথরের শহরে এসে ওনার একদমই ভালো লাগবে না।
অনেক বোঝালাম আমরা কিন্তু আম্মা রাজি না।
শেষে চাচা শ্বশুর বললেন তারা দেখবেন কোনো সমস্যা নেই।

 

আরোও পড়ুনঃ ভালোবাসতে চাই | পর্বঃ১ – Facebook Bangla Golpo

 

প্রয়োজনে তাদের ছেলে আর ছেলের বউ এ বাড়িতে উঠবে।
এখানে একটা কথা চাচা শ্বশুরের ছেলের সাথে আমার একদিনও দেখা হয়না এর মাঝে। কারণ ছেলেটা ময়মনসিংহে জব করতো ও নাকি বদলি নিয়ে রংপুরে শিফট করতে চায় এখন।

কথা ওটাই হলো ওরাই আমাদের বাড়িতে থেকে সার্বিক টা দেখাশোনা করবেন।
আমরা খুশিই হলাম।
আরো একটা বছর গেলো এভাবে ই।

আমি বিসিএস এর প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম ওদিকে বেবী প্ল্যানও করছিলাম কিন্তু চেষ্টা করেও কনসিভ করতে পারছিলাম না।
মায়ের প্রেশার বেড়ে গেলো কিন্তু ও আমার পাশে ছিলো।
ডাক্তার দেখানো হলো, ডাক্তার কিছু টেস্ট দিলো।
নানারকম বাজে চিন্তা আসছিলো আমার মাথায়।

একরকম উত্তেজনার বসে আমিই পরদিন হসপিটালে গিয়ে খবর নিলাম একা একা।
ডাক্তার আমার হাতে রিপোর্ট দিয়ে বললো”ইউ আর আ্যাবসোলিউটলি ফাইন, ইউ ক্যান বি আর মাদার বাট মেইন প্রবলেম তোমার হাজবেন্ড এর মধ্যে। ও কখনো বাবা হতে পারবে না।”

আমি থমকে গেছিলাম এটা শুনে।
কাতর হয়ে জানতে চাইলাম কোনো চিকিৎসা করানো পসিবল কি না?
কিন্তু ডাক্তার বলে দিলো চিকিৎসা ফলপ্রসূ হবে না।

আমি সারা রাস্তা ভাবতে ভাবতে আসছিলাম কি করা যায়?
ব্যাপারটা জানলে ও খুব খুব কষ্ট পাবে।
ঠিক করলাম এখন জানাবো না, কিন্তু ও তো রিপোর্ট চাইবে?

কিছু তো দরকার, জানিনা কেনো আমি রিপোর্ট চেইঞ্জ করানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।
ভাবলাম ওকে বলবো চিকিৎসা করালেই আমি সুস্থ হয়ে যাবো। আর আমার একটা কনফিডেন্স ছিলো আমি ও এই সংবাদ শুনলেও আমার হাত ছাড়বে না।
আমি ওটাই করলাম। রিপোর্ট বদলে দিলাম।

ও রিপোর্ট হাতে পেয়ে নির্বাক হয়ে বসে ছিলো কতক্ষণ।
তারপর আমাকে বললো সমস্যা নেই আল্লাহ চাইলে হবে।
মা ব্যাপারটা জানার পর খুব নারাজ হয়ে গেলেন।
আমি আবার আমার পড়াশোনার দিকে নজর দিলাম।

ও পূর্বের তুলনায় একটু চুপচাপ হয়ে গেছিলো, মা কল দিলে ওকে আলাদা হয়ে কথা বলতে বলতো।
আমার খারাপ লাগতো কিন্তু প্রকাশ করতাম না কারণ আমার ওর ওপর আস্থা ছিলো।
যেই পড়াশোনার পেছনে এত কষ্ট করছিলাম আমি সেটার ফল পেলাম ফাইনালি।
বিসিএসএ আ্যাডমিন ক্যাডারে হয়ে গেলো।
পোস্টিং হলো রংপুরে ই।

দারুণ খুশি হয়েছিলাম যে যাক এখন শ্বশুরবাড়িতেই থাকতে পারবো কোনো সমস্যা হবে না।
ওর জব ঢাকায় থাকার কারণে ও থেকে গেলো আমিই রংপুরে চলে গেলাম।
আমার শ্বাশুড়ি আমাকে আগের মতো পছন্দ করতো না ঠিক।

আমার সাথে তেমন কথাবার্তা বলতো না, আমি চেষ্টা করছিলাম সম্পর্ক সহজ করার কিন্তু ওদিক থেকে সাঁড়া নেই।
একটা ইন্টারেস্টিং কথা শুনবেন?

আমার চাচা শ্বশুরের ছেলে কে ছিলো জানেন?
আমার সেই স্কুল জীবনের বেস্ট ফ্রেন্ডের বয়ফ্রেন্ড টা।
এতবছর পর ওকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেছিলাম।

ওর বউ আমার বান্ধবী নয় অন্য মেয়ে।
আমাকে দেখে ছেলেটা বললো_ কি ভাবী চমকে গেলেন আমাকে দেখে? আগের কথা মনে রাখবেন না। বয়স কম ছিলো ভুল করে ফেলেছি কিন্তু এখন আমারও সংসার হয়েছে!
আমি পূর্বের কাজের জন্য অনুতপ্ত।

ছেলেটা বললেও আমি কেনো যেন বিশ্বাস করতে পারলাম না, একদিকে ভাবছিলাম নাহ্ হয়তো আসলেই ভালো হয়েছে বউ-বাচ্চা আছে চরিত্র ভালোও হতে পারে। আমার সিক্সথ সেন্স বলছিল ও আমার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এর মাঝে আবার ইয়াসির অসুস্থ হয়ে গেলো।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওকে হসপিটালে এডমিট করা হলো।
জানা গেলো ওর কিডনিতে প্রবলেম, রিপ্লেস করতে হবে।
আম্মা আমাকে দোষারোপ করলেন।

কেঁদে কেঁদে বললেন এই অলক্ষীটা আমার সংসার খেতে ই এসেছে।
না সন্তান দিতে পারে আর না সংসারী।
আমি স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম আম্মার কথা শুনে।

ভালো খারাপ সময় সব সংসারে ই আসে তা’হলে এটা নিয়ে আম্মা আমাকে কীভাবে দোষারোপ করতে পারেন?
সব ঝামেলা আমাকেই পোহাতে হচ্ছিলো ইয়াসিরের কিডনি রিপ্লেসের জন্য ডোনার খুঁজছিলাম অন্যদিকে মায়ের খারাপ কথা।
সহ্য করার মতো না তবুও দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে যাচ্ছিলাম।

আল্লাহ্ কে ডাকছিলাম খুব করে।
আল্লাহ্ সহায় হলেন এবং ডোনার পাওয়া গেলো।
এ যাত্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসলো ইয়াসির।

কিন্তু ওর ভেতর আমূল পরিবর্তন আসলো যেন!
বাসায় সবসময় আম্মা আমাকে নিয়ে অভিযোগ করতে থাকলেন।
ওর মন মস্তিষ্ক বিষিয়ে তোলার ছোট্ট প্রয়াস।

বুঝতে পারছিলাম ওদের পরিকল্পনা ছেলেকে আরেকটা বিয়ে করানোর।
আমি চুপচাপ ছিলাম। আমাদের ভালোবাসা পরীক্ষা করার সময়।

চলবে….

আরোও পড়ুনঃ সেরা ৫টি প্রথম প্রেমের চিঠি – Bangla First Love Letter

Sunday Story Bangla

Bengali romantic love stories, Bengali Golpo, Bangla valobasar golpo, Best Bengali Story, Bangla Romantic golpo, Bengali New Love story, Bangla valobasar golpo, cute Bangla love story, bangla choti, choti golpo, বাংলা চটি গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

It Looks Like You Have AdBlocker Enabled

Please support us by disabling your ad blocker or whitelist this site from your ad-blocker. Thanks! We can provide more and more Bangla Golpo when you supporting us.